ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী ইরানের সাথে চুক্তি ‌‘প্রায় চূড়ান্ত’, দাবি ট্রাম্পের বেইজিংয়ে শি-পুতিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক: ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, ক্রেমলিনের তথ্য প্রকাশ ড্রোন হামলা ঠেকাতে তেল ডিপোতে লোহার খাঁচা বসাচ্ছে আমিরাত গাজাগামী ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকে ধর্ষণের অভিযোগ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝিনাইদহে জুমার নামাজের পর এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, আহত তিনজন কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট: চাহিদার অর্ধেক নতুন নোটও দিতে পারছে না টাঁকশাল, বাজারে ছেঁড়া-ফাটা টাকার ছড়াছড়ি ট্রাম্পের পরপরই বেইজিংয়ে পুতিন, বৈঠকের মূল এজেন্ডা কী? ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নীতির বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪ রিপাবলিকান সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ১ বছরে ৫টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় প্রতীক ছাড়াই হবে সিটির ভোট: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা ফায়ার, সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় জওয়ানরা জমিজমা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক শিক্ষার্থীকে গুলি করায় মেডিকেল কলেজের প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড ডুয়েটে নবাগত ভিসি নিয়োগ নিয়ে রণক্ষেত্র: পুলিশ-শিক্ষার্থী-উপাচার্য সমর্থকদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১৭ ক্যাপচা টেস্টিংয়ের দিন শেষ! এবার ‘বট’ রুখতে কিউআর কোড স্ক্যান প্রযুক্তির মাস্টারপ্ল্যান গুগলের ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে কার্যকর হচ্ছে নবম পে-স্কেল ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও হামের টিকার ‘বেসরকারিকরণ’ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ভারতীয় আকাশে একের পর এক বিমানে বোমাতঙ্ক: আমস্টারডাম ও মালয়েশিয়ার ফ্লাইটে ভুয়া হুমকি, বিমানবন্দরগুলোতে ‘হাই-অ্যালার্ট’ জনগণের দাবি হলে কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছোট গুনাহ কি ধ্বংসের কারণ? আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তি নিয়ে ইসলামের বিশেষ সতর্কবার্তা

  • আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ১২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ১২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন
ছোট গুনাহ কি ধ্বংসের কারণ? আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তি নিয়ে ইসলামের বিশেষ সতর্কবার্তা ছবি: সংগৃহীত
‘গুনাহ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত ফারসি শব্দ। ‘গুনাহ’ বোঝাতে বাংলায় আরো একটি বহুল প্রচলিত শব্দ হচ্ছে ‘পাপ’। বাংলা অভিধানে এর অর্থ লেখা হয়েছে অন্যায়, কলুষ, দুষ্কৃতি ইত্যাদি।

আরবিতে গুনাহ বা পাপ বোঝানোর জন্য অনেকগুলো পরিভাষা ব্যবহৃত হয়।’
যেমন—আল ইছম, আল খাত্বা ও আল খাত্বিআহ , আল মাসিয়াহ , আল জুর্ম, আয্ যান্ব ইত্যাদি। 
এসব পরিভাষার মাঝে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও মূলত যা বোঝায় তা হলো, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ পালন না করা বা তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করা এবং তাঁদের নিষেধকৃত কাজ করা, তা প্রকাশ্যেই হোক বা গোপনে হোক। (গুনাহ মাফের উপায়, শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল)

একজন মুমিন হিসেবে সব সময় মনকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা থাকা জরুরি। মহান আল্লাহ ইউসুফ (আ.)-এর ভাষ্য এভাবে উল্লেখ করেন, ‘আর আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না।
নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দপ্রবণ। শুধু ওই ব্যক্তি ছাড়া, যার প্রতি আমার রব দয়া করেন। নিশ্চয়ই আমার রব ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’
(সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৩)

সুতরাং মানুষের অন্তরকে পাপের পঙ্কিলতা ও কলুষ-কালিমামুক্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি, যাতে তা পাপের দিকে ঝুঁকে না পড়ে।
আর যদি কখনো গুনাহ হয়ে যায়, গুনাহ যে পর্যায়েরই হোক না কেন তাকে ছোট মনে করা যাবে না।
বরং তাকে পরকালে শাস্তির কারণ মনে করে তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নিচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে হয়তো পর্বতটা তার ওপর ধসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকের ওপর দিয়ে চলে যায়। (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা ছোট ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থেকো।
কেননা তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ওই সম্প্রদায়ের মতো, যারা কোনো উপত্যকায় অবতরণ করেছে। অতঃপর প্রত্যেকে একটি করে কাঠ নিয়ে এসেছে। এমনকি তা স্তূপাকার ধারণ করেছে। যার দ্বারা তারা রুটি পাকাতে পারে। আর নিশ্চয়ই ছোট ছোট গুনাহ যখন পাপীকে পাকড়াও করবে তখন তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে। (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২২৮৬০)

একবার ভেবে দেখুন! পরিণতি সম্পর্কে জানা- বোঝার পরও গিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, খেয়ানত, মা-বাবার অবাধ্যতা, মিথ্যা বলা, কুদৃষ্টি ও অন্যের মর্যাদাহানির মতো গুনাহগুলো থেকে আমরা কজন বেঁচে থাকতে পারছি! কজন এগুলোকে পাপকর্ম হিসেবে মূল্যায়ন করছি? এসব পাপে লিপ্ত হওয়ার পর আমাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনার হচ্ছে কি? হয়তো হচ্ছে। কিন্তু তা খুব সামান্যই।

এভাবে ঈমানি দুর্বলতা, আল্লাহভীতির অভাব এবং পরকালীন জবাবদিহির ব্যাপারে অবহেলার কারণে আমরা আমাদের পাপগুলো প্রতিনিয়তই তুচ্ছজ্ঞান করে চলেছি।

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ছোট গুনাহগুলো এক এক করে জমা হতে থাকে। অতঃপর মৃত্যুর সময় এগুলোই ঈমানহারা হওয়ার কারণ হয়। কারণ ছোট ছোট গুনাহ মিলে বড় গুনাহে পরিণত হয় এবং মানুষের ধ্বংসের মাধ্যম হয়। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন : ৩/৬০)

ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে গুনাহের কুপ্রভাব দেহ-মন উভয়ের জন্য এমনই ক্ষতিকর, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

১. ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া। কারণ ইলম হচ্ছে নুর, যা আল্লাহ মানুষের অন্তরে দান করেন। আর গুনাহ ওই নুরকে নিভিয়ে দেয়।

২. রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়া।

৩. একাকিত্ব অনুভব হওয়া। কারণ গুনাহগার ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যায়। এ জন্য বহু মানুষের ভিড়েও সে যেন একা, নিঃসঙ্গ। দুনিয়ার সব সুখ একত্র হয়ে গেলেও তার সেই একাকিত্ব দূর করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে শুধু ওই ব্যক্তিই বুঝতে পারে, যার হৃদয় জাগ্রত থাকে। যদি ওই ব্যক্তি বুদ্ধিমান হয়, তাহলে মৃত্যুযন্ত্রণা তাকে ঘায়েল করার আগেই একাকিত্বের সতর্কবাণী অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ গুনাহ ছেড়ে দেবে। (আল জাওয়াবুল কাফি ১/৫২)

কোনো পাপ ছোট নয়। আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, ‘তোমরা বহু এমন (পাপ) কাজ করছ, সেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সূক্ষ্ম (নগণ্য)। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিনাশকারী মহাপাপ বলে গণ্য করতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৯২)

আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহচর্যপ্রাপ্ত সাহাবিরা সামান্য কোনো পাপ করে ফেললেও তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতেন। যেমন—আবু বকর (রা.) একবার রাবিআহ (রা.)-এর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে তাকে একটা অপছন্দনীয় কথা বলে ফেলেন। অতঃপর তিনি অনুতপ্ত হয়ে বললেন, হে রাবিআহ! তুমি অনুরূপ কথা বলে প্রতিশোধ নিয়ে নাও, যাতে তা আমার কথার কিসাস হয়ে যায়। কিন্তু রাবিআহ আবু বকর (রা.)-এর উচ্চ মর্যাদার কথা ভেবে অনুরূপ কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেন। আবু বকর (রা.) বলেন, তোমাকে অবশ্যই বলতে হবে নতুবা তোমার বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব।

অতঃপর তিনি পুরো ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি রাবিআহকে বলেন, তুমি অনুরূপ বলবে না। বরং বলবে, হে আবু বকর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। রাসুল (সা.)-এর এ নির্দেশনা শুনে আবু বকর (রা.) ক্রন্দনরত অবস্থায় ফিরে গেলেন। (সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস : ৩২৫৮)

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী