বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা 'বিমানবন্দর লিজ নীতিমালা' স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়াই দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমান বিশেষজ্ঞ মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে এটি বেবিচকের (CAAB) আইনগত এখতিয়ারকে দুর্বল করে দেবে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে এবং আইকাও (ICAO) নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, মাত্র দুই দিনের মধ্যে খসড়া তৈরির প্রচেষ্টা স্বচ্ছতার অভাব এবং সম্ভাব্য গোপন বাণিজ্যিক স্বার্থের দিকে ইঙ্গিত করছে, যা দেশের বিমান নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন 'বিমানবন্দর লিজ নীতিমালা' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, এটি নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নতুন 'বিমানবন্দর লিজ নীতিমালা' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, এটি নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ খায়রুল আলম জোর দিয়ে বলেছেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের সম্পত্তি অধিগ্রহণ, ব্যবস্থাপনা ও লিজ দেওয়ার ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সিএএবি'র ওপর ন্যস্ত। ১৯৯৬ সালের 'রুলস অব বিজনেস'-এ মন্ত্রণালয়ের কেবল নীতিগত দিকনির্দেশনার ক্ষমতা রয়েছে, সরাসরি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার নয়। তাই নতুন নীতিমালা তৈরির এই উদ্যোগ আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিএএবি'র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলে বিমানবন্দর পরিচালনায় বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে পারে।
একজন সাবেক বিমান নিরাপত্তা পরিচালক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়, তবে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বিধি এবং আইকাও'র অ্যানেক্স-৯, ১৪, ১৭ ও ১৯-এ থাকা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হবে। বাণিজ্যিক লিজিং নিয়ন্ত্রণহীন হলে সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত প্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা বাড়তে পারে।
একজন সাবেক বিমান নিরাপত্তা পরিচালক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়, তবে বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বিধি এবং আইকাও'র অ্যানেক্স-৯, ১৪, ১৭ ও ১৯-এ থাকা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হবে। বাণিজ্যিক লিজিং নিয়ন্ত্রণহীন হলে সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত প্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: সিএএবি অপারেশনাল ক্ষমতা হারালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, কারণ বিমানবন্দর নিজেই আন্তর্জাতিক অডিটের অংশ।
বিমানবন্দরের দোকান, লাউঞ্জ ও ডিউটি-ফ্রি শপ পরিচালনাকারী ছোট উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, নতুন নীতি কার্যকর হলে পুরো লিজ-সংক্রান্ত বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলোতে বলা হয়:
১. জনগণের স্বার্থে বর্তমান 'বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭'-এর ১৪ ধারাটি অপরিবর্তিত রাখা উচিত, যা চেয়ারম্যানকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে।
২. প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে বেবিচকের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হবে, যা আইকাও'র নিরীক্ষায় দেশের কার্যকারিতাকে দুর্বল করবে।
বিশেষজ্ঞ ও সিএএবি কর্মকর্তারা সর্বসম্মতভাবে এই নীতি চূড়ান্ত করার আগে স্বচ্ছতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।