চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন বা অবরোধ মোকাবিলায় দ্রুত গতিতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে তাইওয়ান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের শুরুর দিকে দেশটির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মোট সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল অস্ত্রভান্ডার তাইওয়ান প্রণালিতে চীনা নৌবহরের জন্য একটি ভয়ংকর 'কিল জোন' তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তাইওয়ান বর্তমানে 'অসমমিত প্রতিরক্ষা কৌশল' অনুসরণ করছে, যেখানে চীনের বিশাল সামরিক শক্তির বিপরীতে তুলনামূলক কম খরচের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি স্বল্প-পাল্লার অস্ত্র এবং আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ড্রোনও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেন ও ইরানের সংঘাত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাচ্ছে তাইওয়ান।
সংখ্যার দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৪৫০টি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ২০২০ সালে অনুমোদিত ২.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় আরও ৪০০টি হারপুন ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা, যাতে হারপুনের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮৫০টি। এর সঙ্গে দেশীয়ভাবে তৈরি হসিয়ুং ফেং-২ ও হসিয়ুং ফেং-৩ ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে মোট সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৫০-এ পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
তাইওয়ানের শীর্ষ সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপপ্রধান ও সি-ফু স্পষ্ট করে বলেছেন, লক্ষ্য প্রতিটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা নয়, বরং চীনের অবতরণ ও সামরিক অভিযান যেন সফল না হয় তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল ও বিশ্লেষক গ্রান্ট নিউশামও মনে করেন, দূরপাল্লার নির্ভুল জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে সব কিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হওয়ার ওপর। উৎপাদন জটিলতা দেখা দিলে সময়সীমা ২০৩০ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে একজন তাইওয়ানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ ছাড়া তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প-শি আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করলেও তাইওয়ান সেই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র তাইওয়ানের জনগণেরই।