মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় অঞ্চলটির ১৪টি দেশে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো এই জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ওইসব দেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়ের অবস্থান জেনে রাখতে বলা হয়েছে।
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলে উচ্চমাত্রার উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো সময় বৈরি পরিস্থিতি বা হামলা হতে পারে। ব্রেকিং নিউজের দিকে নজর রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে নাগরিকদের।
সতর্কতাকে দুটি স্তরে ভাগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। লেভেল-৩ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বাহরাইন, ইসরাইল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করতে বলা হয়েছে, তবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। অন্যদিকে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেনকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ লেভেল-৪ সতর্কতায়, যেখানে চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কতার পেছনে তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে বিশেষভাবে উঠে এসেছে গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা, যাতে এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হন। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা মোটেই কমেনি। সাম্প্রতিক সামরিক হামলাগুলো পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।