খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নআয়ের ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা এবং উৎপাদন সম্প্রসারণে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকিও দেওয়া হবে। এতে ঋণের প্রকৃত সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়সহ মোট উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের বড় অংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া হবে।