নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের প্রসার নিশ্চিত করতে এ খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানিতে আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার এ সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব করেছে, যাতে সৌরবিদ্যুৎ শিল্প দীর্ঘমেয়াদে বিকশিত হতে পারে।
তবে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ কিছু পণ্যের জন্য বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর মধ্যে দেশে এসব পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠবে।
বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কর সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিফাইনারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় ট্রান্সফরমার শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।