মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের উত্তাপ এবার ইউরোপের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিমান বাহিনীর (RAF) আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর সেখানে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন (HMS Dragon) মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
গত সোমবার (০২ মার্চ) রাতে আক্রোতিরি ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে একটি ইরানি তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন রানওয়েতে আঘাত হানে। এতে কোনো প্রাণহানি না হলেও অবকাঠামোগত সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ড্রোনটি লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। হামলার পর ঘাঁটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা (Critical Level) জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্তোদুলিদেসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর এই সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
বর্তমানে ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থানরত টাইপ-৪৫ ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’ আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে সাইপ্রাস উপকূলে পৌঁছাবে। এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ড্রোন ও মিসাইল শনাক্তকরণে পারদর্শী।
ডেস্ট্রয়ারের পাশাপাশি ড্রোন প্রতিরোধে সক্ষম (Counter-drone tech) দুটি বিশেষ হেলিকপ্টারও পাঠানো হচ্ছে।
ফ্রান্স ইতিমধ্যে একটি ফ্রিগেট ও অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং গ্রিস তাদের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশসীমায় টহল দিচ্ছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান ও তার প্রক্সিরা (হিজবুল্লাহ, হুথি) প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে আভাস দিয়েছেন যে, এই সংঘাত অন্তত ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
যুক্তরাজ্য প্রথম দিকে সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও, এখন তাদের ঘাঁটির ওপর হামলার পর নিজেদের সম্পদ রক্ষায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আক্রোতিরি ঘাঁটি থেকে ব্রিটিশ সেনাদের পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট