যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সোমবার (০২ মার্চ) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (Department of State) জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর দেশটির করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা সামাজিক সহায়তা (Public Charge) তুলনামূলক বেশি গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মূলত মার্কিন অর্থনীতিতে নতুন অভিবাসীদের সম্ভাব্য আর্থিক চাপ এবং সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করতেই এই ‘পজ’ বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদী ভিসাপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অভিবাসী ভিসা স্থগিত: যারা স্থায়ীভাবে বসবাসের (Green Card) জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ভিসা ইস্যু করা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
- অ-অভিবাসী (Non-immigrant) ভিসা চালু: সাধারণ ভিজিটর ভিসা (B1/B2), পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদী অন্য কোনো ভিসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বাংলাদেশি B1/B2 আবেদনকারীদের জন্য ১৫,০০০ ডলারের একটি সিকিউরিটি বন্ড জমা দেওয়ার নতুন শর্তারোপ করা হতে পারে বলে কিছু সূত্রে জানানো হয়েছে।
- সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া: আবেদন গ্রহণ এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকার (Interview) গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আগের মতোই চলমান থাকবে। আবেদনকারীরা দূতাবাসে এসে সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু করার বিষয়টি স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নতুন নির্দেশনা দিচ্ছে।
- ভিসা বাতিল হবে না: যাদের কাছে ইতিমধ্যে বৈধ অভিবাসী ভিসা রয়েছে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে না। এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র নতুন করে ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে কার্যকর।
ডেস্ক রিপোর্ট