তবে এ বিধান সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যদি সংশ্লিষ্ট নারী অমুসলিম হয়, অথবা মুসলিম হলেও ফিসক-ফুজুরে (পাপাচারে) লিপ্ত হয়, বা বেপর্দা নারী হয় কিংবা এমন হয় যে, সে অন্যদের সামনে নারীর গোপন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বর্ণনা দেয়—তাহলে তার সামনে সতরের ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে পেট, পিঠ, বক্ষ, পায়ের অংশসহ শরীরের বেশিরভাগ অংশ আবৃত রাখা জরুরি।
খলীফাতুল মুসলিমীন হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. তাঁর গভর্নর হজরত আবু উবাইদা রা.-এর নিকট লিখিত পত্রে বলেন—
أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ نِسَاءً مِنْ نِسَاءِ الْمُسْلِمِينَ يَدْخُلْنَ الْحَمَّامَاتِ مَعَ نِسَاءِ أَهْلِ الشِّرْكِ، فَانْهَ مَنْ قِبَلَكَ عَنْ ذَلِكَ؛ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى عَوْرَتِهَا إِلَّا أَهْلُ مِلَّتِهَا.
“অতঃপর—আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুসলিম নারীদের মধ্যে কিছু নারী মুশরিক নারীদের সাথে একত্রে হাম্মামে (গোসলখানায়) প্রবেশ করছে। অতএব, তুমি তোমার অধীনস্থদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখো। কেননা, যে নারী আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, তার জন্য মুসলিম নারী ব্যতীত অন্য কারো (বিধর্মী মহিলার) সামনে নিজের সতর প্রকাশ করা জায়েয নয়।” সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর 6/428
এই বাণী থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই মুসলিম নারীদের সতর রক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হতো। বিশেষত অমুসলিম নারীদের সাথে এমন পরিবেশে অবস্থান করা—যেখানে সতর উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে—তা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৫৫, রুহুল মাআনী ২৪/২৮০, মাআরিফুল কুরআন ৬/৪০৪, হিন্দিয়া ৫/৩২৭, দুররে মুখতার ৬/৩৭১, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউন, করাচী; ফাতাওয়া নং : ১৪৪০১০২০০৯৪৬
সংগৃহীত- হানাফি ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে (Khairul Islam)
ডেস্ক রিপোর্ট