মধ্য ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন কৃষিভিত্তিক বসতি ভ্রাবলে এলাকায় খননের সময় এই কঙ্কালগুলো পাওয়া যায়। বসতির চারপাশে থাকা একটি পরিখা থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। গবেষকেরা অন্তত ৭৮ জন মানুষের দেহাবশেষ শনাক্ত করেছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবগুলোর মধ্যে মাত্র একটি কঙ্কালের মাথার খুলি অক্ষত ছিল—সেটিও একটি ছোট শিশুর।
এই আবিষ্কার প্রথমে গবেষকদের মনে করেছিল, হয়তো তারা কোনো সহিংস হামলা বা গণহত্যার শিকার হয়েছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব মানুষের মাথা মৃত্যুর পর ইচ্ছাকৃতভাবে দেহ থেকে আলাদা করা হয়েছিল।
জার্মানির কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, কঙ্কালগুলোর ওপর সহিংস মৃত্যুর স্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মাথা বিচ্ছিন্ন করার ধরন দেখে মনে হয়েছে, যারা এটি করেছে তারা মানবদেহ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখত। কঙ্কালে থাকা কাটার দাগ এবং দেহগুলোর অবস্থান দেখে বোঝা যায়, এটি কোনো হঠাৎ ঘটনার ফল নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে করা একটি প্রক্রিয়া।
আরও রহস্য তৈরি করেছে এই যে, বিচ্ছিন্ন মাথার খুলিগুলোর একটিও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, সেই সময়কার মানুষের বিশ্বাসে মাথা বা খুলি বিশেষ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করত। সম্ভবত কোনো ধর্মীয় আচার বা সামাজিক রীতির অংশ হিসেবেই এগুলো আলাদা করা হয়েছিল।
কঙ্কালগুলোর অবস্থানও অস্বাভাবিক ছিল। কিছু কঙ্কাল উপুড় হয়ে ছিল, আবার কিছু জোড়ায় জোড়ায় রাখা হয়েছিল। এসব বিষয় ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের দাফন বা সমাহিত করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা আচার ছিল।
গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার প্রস্তর যুগের ইউরোপে মৃত্যু ও সমাধি প্রথা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এতদিন মনে করা হতো, তখনকার সমাজ তুলনামূলকভাবে সরল ছিল। কিন্তু এই নিদর্শন দেখাচ্ছে, সেই সময়েও মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক আচরণ ছিল অনেক জটিল ও সংগঠিত।
যদিও মাথা বিচ্ছিন্ন করার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবু এই আবিষ্কার ইউরোপের প্রাচীন মানবসমাজের জীবনধারা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধারণা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রাবলের এই স্থানটি ভবিষ্যতে আরও গবেষণার মাধ্যমে প্রস্তর যুগের মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য তুলে ধরতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট