ব্রিটিশ গণমাধ্যম 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এর হাতে আসা একটি গোপন নথির বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ একটি ১০ পৃষ্ঠার প্রস্তাবনা তৈরি করেছিল। এই পরিকল্পনায় ইরানকে প্রায় ৫ হাজার স্বল্পপাল্লার ফাইবার-অপ্টিক ড্রোন এবং বেশ কিছু দীর্ঘপাল্লার স্যাটেলাইট-চালিত ড্রোন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই ফাইবার-অপ্টিক ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথাগত রেডিও সিগন্যালের বদলে এই ড্রোনগুলো চিকন তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যার ফলে এগুলোকে জ্যাম করা বা মাঝপথে আটকে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে সফলভাবে ব্যবহারের পর রাশিয়া এখন এই প্রযুক্তি ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ড্রোনগুলো চালানোর জন্য দক্ষ জনবল তৈরির পরিকল্পনাও করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থী এবং সিরিয়ার আলাউইত সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে অনুগতদের বেছে নিয়ে ড্রোন অপারেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এই নথিতে।
যদিও এই ড্রোনগুলো ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে লেবাননের হিজবুল্লাহর হাতে এই ধরনের প্রযুক্তির উপস্থিতি রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলা করতেই মস্কো ও তেহরান তাদের সামরিক সহযোগিতার এই নতুন নীল নকশা তৈরি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট